মৃত কিশােরীর জীবিত উদ্ধার: বিচার বিভাগীয় তদন্তের শুনানি ৫ জানুয়ারি

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে ১৫ বছর বয়সী কিশােরীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের পর শ্বাসরােধ করে হত্যার পর নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার অভিযােগে করা মামলায় স্বীকারােক্তি আদায়-সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য সময় চেয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট। পরে সময় আবেদন গ্রহণ করে আগামী ৫ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী মাে. আসাদ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১৯ ন‌ভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মােস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বৃহস্পতিবার আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাড, মােহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হােসেন বাপ্পী।

বেঁচে থাকার পরও নারায়ণগঞ্জের স্কুলছাত্রীকে হত্যার অভিযােগে করা মামলায় আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণের কার্যক্রমের বৈধতা ও যৌক্তিকতার প্রশ্ন তুলে আবেদন (রিভিশন) করা হয়। এই আবেদনের ওপর শুনানির পর গত ২৭ আগস্ট স্বীকারােক্তি আদায়-সংক্রান্ত বিচারিক আদালতের সব রেকর্ড ও মামলার দুই তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (আইও) তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলবের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিমকে (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) সব নথিপত্র (মামলার রেকর্ড) পাঠাতে বলা হয়েছিল। তলবের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছিলেন মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর রাষ্ট্র ও আবেদনকারী উভয়পক্ষের শুনানির পর এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ। নারায়ণগঞ্জে মৃত’ কিশোরী জীবিত ফিরে আসার ওই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার আদেশ দেয়া হয়।

আইনজীবীরা জানান, আশা করছি তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়ার পর আদালত উপযুক্ততা বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বাবস্থা নেবেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভােগ পাক্কা রােড এলাকার এক স্কুলছাত্রী গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ১৭ জুলাই সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্কুলছাত্রীর বাবা। এক মাস পর ৬ আগস্ট একই থানায় স্কুলছাত্রীর বাবা অপহরণ মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বন্দর উপজেলার বুরুন্ডি খলিলনগর এলাকার আমজাদ হােসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২২) ও তার বন্ধু বুরুন্ডি পশ্চিমপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে রকিবকে (১৯)। তাদের ওইদিনই গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর গ্রেপ্তার করা হয় বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানি এলাকার বাসিন্দা নৌকার মাঝি খলিলকে (৩৬)।

গত ৯ আগস্ট পুলিশ জানায়, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেন আসামিরা। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অথচ ২৩ আগস্ট দুপুরে বন্দরের নবীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় সুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে। সে নিজে তার মাকে একটি দোকান থেকে কল করে চার হাজার টাকা চায়। বাবা-মা এতে অবাক হয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। পরে স্কুলছাত্রীকে নিয়ে তারা থানায় হাজির হন। তাদের সঙ্গে ছিল কিশােরীর স্বামী ইব্রাহিম। তাকে জীবিত অবস্থায় পাওয়ায় তােলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশের তদন্ত ও আদালতে দেয়া জবানবন্দিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এরপর ‘ধর্ষণের পর নদীতে লাশ ফেলে দেয়া স্কুলছাত্রীর ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তন’ শিরােনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সংযুক্ত করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে একটি রিভিশন দায়ের করেন অ্যাডভােকেট মাে. শিশির মনির।

0