রাজনীতিটাকে ইবাদত হিসেবে নিয়েছি: শামীম ওসমান

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জঃ  ‘আমরা মানুষের মনের মধ্যে স্থাপন করতে চাই এবং সেই লক্ষে কাজ করছি। কবে মরে যাই ঠিক নাই তবে মরার জন্য প্রস্তুত আছি, মরে গেলে অন্তত মানুষ যাতে বলে লোকটা ভালো ছিলো। রাজনীতিটাকে ইবাদত হিসেবে নিয়েছি এটা একটা ইবাদত। যদি দেশের পরিস্থিতি ভালো থাকে, আগামী বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি যদি আমি বেচেঁ থাকি, তাহলে নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য কিছু বলবো, তারপর নেত্রীর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবো। আমরা খেতে আসি নাই দিতে আসছি। রাজনীতিতে যার যোগ্যতা আছে যার স্থান আছে তাকে জায়গা করে দেয়া সুযোগ করে দেয়া।’


পরিবারের পক্ষ থেকে এমপি একেএম শামীম ওসমানের ৬০ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নম পার্কের সেই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমার বড় ভাই আমাকে নির্দেশনা দিয়েছে ভবিষৎ পরিকল্পনার কথা, ২ টা বিশ্ব বিদ্যালয়ের কথা বলেছে, ইতিমধ্যে ১টার পারমিশন দেয়েছে, চিঠি পেয়েছি। তার সাথে আরেকটা এড করতে চাই, সেটি হলো আমরা একটা হার্ট ফাউন্ডেশন করতে চাই। জাতির পিতার কণ্যাকে যদি আল্লাহ বাচিঁয়ে রাখে, তাহলে আগামী দুই বছরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হবে বাংলাদেশে।
অনেকেই বললো প্রবাকান্ডা ছাড়ায়, পক্ষে বলে বিপক্ষে বলে। আমি একটা কথা খুব বিশ্বাস করি `truth is beauty beauty is truth’ সত্যি সুন্দর সুন্দরই সত্যি। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই আছে পদ পদবী যোগ্য কিন্তু তারা সেই পদ পদবী নেয়নি। আসলেই আমি অনেক ভাগ্যবান যে আমি অনেক ভালো একটা বন্ধুর সার্কেল পেয়েছিলাম, একটা ভালো পরিবার পেয়েছিলাম। আমি সবার কাছে থেকে সাপোর্ট পেয়েছি সব সময়। সব সময় রাজনীতি দুই ভাবে করে, একটি হৃদয় দিয়ে আরেকটি মস্তিষ্ক দিয়ে। আমাদের ৭৫ যে রাজনীতি শুরু করেছি সেটি ছিলো হৃদয় থেকে। আমার আব্বা ৭১ এর  আগে যখন রাজনীতি করতো সেটাও হৃদয় দিয়ে করেছে। আজ অব্দি যারা হৃদয় দিয়ে রাজনীতি করেছে তারাই পেরেছে দেশের জন্য জীবন দিতে। আমার রাজনৈতিক জীবনে আমি এই হাত দিয়ে ৪৯জন কে মাটি দিয়েছি।’

এরপর দাবি করেন অনেকে বলে wrong track right track কিন্তু আমি বলি I am always right track’ নয়তো বাংলাদেশের সব থেকে বড় বোমব্লাষ্ট আমার উপর হইতো না, বাংলাদেশে সর্ব প্রথম আমি দুর্নিতিতে সাজাপ্রপ্ত হয়েছি, কারণ আমাকে শর্ত দেয়া হয়েছিলো আর আমি পাল্টা শর্ত দিয়েছিলাম, বলেছিলো প্রধান মন্ত্রীর কাছে মাফ চাইতে, আমি বলেছিলাম এখনো সেই স্বপ্ন দেখেন, আপনি দেখেন আপনি অনেক বড় কিন্তু আমি দেখি আপনি অনেক ক্ষুদ্র, কারণ আমরা জানতাম what’s going on. আমরা রাজনীতি করি। কেউ যদি বলে দুয়ে দুই কত আমরা বলি না চার আমরা বলি বাইশ। আর এটাই যদি না বলতে পারি তাহলে রাজনীতি করতে আসছি কেনো। আমাকে দুর্নিতির দায়ে ১৩ বছরের সাজা দেয়া হলো, কেনো? কারণ আমি নাকি ৭ লক্ষ টাকা টেক্স দেই নাই, ২০০১ থেকে ২০০৬। এতো কিছুর মানে হলো আমি right track  এ আছি এবং আমি শেষ পর্যন্ত আমি right track এ থাকবো। আর সেটি হলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, শেখ হাসিনার নির্দেশীত পথ। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাদীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন আর শেখ হাসিনা মানুষের স্বপ্ন পূরন করেছে, আর সেটি পূরন করাই আমার স্বপ্ন। তবে ২০২২ সালে সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে আমি একটি কথা বলবো যারা আমাকে তৈরী করেছে। সেদিন পলিটিক্স শেষ হতেও পারে নতুবা নতুন করে শুরু হতেও পারে।

অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানের স্ত্রী, দুই সন্তান, পুত্রবধূ, নাতী, বড় ভাই সেলিম ওসমান, বড় বোন নিগার ওসমান, ভাবী নাসরিন ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ও সদর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা বৃন্দ, বন্ধু আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দিন নাসিম, জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, জেলা আইনজীবী সমিতি, নাসিক কাউন্সিলর বৃন্দ, বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যবসায়ি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলাআওয়ামীলীগসহ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

0