রূপগঞ্জে বোরো চাষিরা খুশি, প্রতি বিঘায় ফলন ২০ মণ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জে নির্ধারিত সময়ে কৃষিজমিতে পানি পৌঁছানোর কারণে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে খুশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দুই হাজার কৃষক পরিবার। ধানের দাম ভালো পাওয়াতে ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। চলতি বছর উপজেলার ৪৫ হাজার ৬০০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী সেচ প্রকল্প ও উওর রূপগঞ্জ সেচ প্রকল্পের ক্যানেলগুলোতে সংস্কারের কারণে নির্ধারিত সময়ে পানি পৌঁছানো যায়। এতে কৃষকরা ঠিক সময়ে জমি আবাদ করতে পারেন। এর ফলে চলতি বোরো মৌসুমে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক জনান, করোনাকালেড়ও প্রধানমন্ত্রী কৃষির ওপর গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী সেচ প্রকল্প (এন এন আই পি) খালের ক্যানেলগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য বরাদ্দের টাকা দ্রুত দিয়েছেন। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার দ্রুত কাজ করতে পেরেছেন। এ জন্য চলতি বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে।

মাছিমপুর এলাকার কৃষক জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বছর পানি পাওনে আট বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাইছি ভাই। প্রতি বিঘায় ২০ মণ করে ধান অইছে।’ হাটাব এলাকার কৃষক শফিল আলম ও সামছুল মিয়া বলেন, ‘এ বছর আমরা জমিতে ঠিক সময়ে পানি পাওনে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে ধানের দামও ভালো।’

মাছুমাবাদ ও ভুলতা এলাকার কৃষক রিপন বিশ্বাস ও জামাল মিয়া জানান, বানিয়াদি পাম্প স্টেশন ঠিকমতো চালু রাখায় সরকারপাড়ার মূল খাল মেরামতের কারণে ঠিক সময়ে এলাকায় পানি পৌঁছেছে। মুড়াপাড়া এলাকার কৃষক নবীর হোসেন বলেন, ‘ঠিক সময় পানি পাইছি। কৃষি অফিস সহযোগিতা করেছে। বোরো আবাদও ভালো হযেছে।’

দড়িকান্দি এলাকার কৃষক সুবল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘এ বছর জানুয়ারি মাসের শুরুতে সেচ পানি পেয়েছি। এবার তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাইছি। বাম্পার ফলন পাইছি।’ হাটাবো টেকপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঠিক সময়ে খাল সংস্কার করায় এবার প্রায় দু শ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাইছি। ফলনও ভালো পেয়েছি।’ এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেহা নুর বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার কাজগুলো ঠিকমতো হওয়ায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা (ডিভিশন-১) বিভাগীয় প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে সেচ খালগুলো প্রতিবছরের চাইতে এ বছর সংস্কারকাজ বেশি হয়েছে। অগ্রণী সেচ প্রকল্পের অধীনে সময়মতো সেচ সুবিধা দেওয়ায় কৃষক বোরো ধানের ভালো ফলন পেয়েছে।’

0