শিশুকে ‘ধর্ষণের পর হত্যা’র ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামী পলাতক

0

আড়াইহাজার করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগগঞ্জ: আড়াইহাজারে ৫ বছরের কন্যা শিশুর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ৪ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

‘আইসক্রীমের কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা’র অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার রাতেই শিশুটির বাবা মামলা করেন।

মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হলেন- নাঈম নামের এক যুবক। তাকে সহযোগিতার অভিযোগে চাঁদপুর জেলার কচুয়াথানাধীন আয়মা এলাকার আলী আশরাফের ছেলে সামাদ, নরসিংদী জেলার পলাশথানাধীন কবিরাজপুর এলাকার নাসিরউদ্দিনের ছেলে শিমুল ও নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন আনোয়ার হোসেন ওরফে অনু’র ছেলে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হত্যাকান্ডের শিকার শিশু এলাকার অন্য শিশুদের সঙ্গে বাড়ির বাইরে খেলা করছিল। এ সময় মামলার প্রধান অসামি নাঈম তাকে ডেকে নিয়ে পাশের দোকান থেকে একটি আইসক্রীম ও সিগারেট আনতে বলে। তার কথামতো সে বাড়ির পাশে রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তির মুদিদোকান থেকে আইসক্রীম ও সিগারেট নিয়ে নাঈমের থাকার কক্ষে যায়। এজাহারে বাদী আরো উল্লেখ্য করেন, সাড়ে ১১টার দিকে বাদী ও তার স্ত্রী শিশু কন্যাকে খোঁজাখুঁজি করে। তাকে না পেয়ে মুদিকোদানদার রুহুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে সে জানায় নাঈম তাকে আইসক্রীম ও সিগারেট নিয়ে তার কক্ষে যেতে বলেছে। তার কথামতো শিশুটি আইসক্রীম ও সিগারেট নিয়ে তার কক্ষে যায়। পরে বাদী ও তার স্ত্রী তাদের প্রতিবেশী নাঈম মোল্লা ওরফে নাঈমের বাড়িতে গিয়ে নাঈমের থাকার কক্ষের সামনে গিয়ে দেখতে পান কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে। পরে তালা ভেঙে কক্ষের ভেতরে গিয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে চৌকির নিচে হাত-পা ও মুখে গামছা পেঁচানো কাঁথা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় শিশুর মহদেহ উদ্ধার করে তারা। এ সময় শিশুর যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্তরক্ষণ হচ্ছিল।

এদিকে আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) জুবায়ের আহমেদ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে বলা যাবে, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা। মামলার প্রধান আসামির নাম জানা গেলেও তার ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই তার ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘তবে এ ঘটনায় ধর্ষণের আইনেই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।’ শুক্রবার এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের রিমান্ড আবেদন করে নারায়ণগঞ্জের আদালতে পাঠানো হয়।

0