শোক দিবসে মাদ্রাসার শিশুদের ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনী’ শুনালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বঙ্গবন্ধু সর্ম্পকে জানছেন, ছোট ছোট কমলমতি শিশু শিক্ষার্থী। শুনছেন স্বাধীনতার পূর্বের করুণ ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনার বাস্তব বর্ণনা, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প; এ সবই শুনাচ্ছেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা।

কমল মতি শিশুদের নিয়ে সোমবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ফতুল্লায় রওজাতুস সালিহীন ফাজিল মাদ্রাসায় ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থীরা এক মনে সেই গল্পই শুনছিলেন, নিরবে বসে মনের ক্যানভাস আঁকছিলেন ‘অবহেলিত এক জাতি থেকে বীরের জাতিতে পরিনত করা; সেই নায়কের ছবি’।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আঃ শুকুর আলি মোল্লার সভাপতিত্বে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি করে নিয়ে আসা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মমিনুল ইসলামকে।

এ সময় মাদ্রাসাটির বিভিন্ন শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীরা আলোচনা সভায় অংশ নেন।

সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মমিনুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশ (তত্বকালীন পূর্ব পাকিস্তান) বরাবরই অবহেলার শিকার ছিলো পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে। এদেশের মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন। তখন আল্লাহপাক আমাদের কাছে, এমন এক নেতা পাঠিয়ে ছিলেন, বিশ্বের কোথাও আমার জীবনে উনার মতো নেতা দেখি নি। যার আঙ্গুলের ইসারায় বাংলাদেশের মানুষ একত্রিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু সর্ম্পকে বলতে গেলে ৩ ঘন্টা নয়, ৩ দিনেও শেষ করা যাবে না। উনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে বহুবার জেলে গিয়েছেন। তারপরেও তিনি বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে কথা বলে গেছেন, কাজ করেছেন। বলেছেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা মমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত আমাদের বন্ধু দেশ ছিল। তারা আমাদের অনেক সাহায্য সহযোগীতা করেছে। তখন আমেরিকা আমাদের নানা ভাবে বাধা দিয়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের তেমন কিছুই ছিল না বলা যায়, বঙ্গবন্ধু মাত্র আড়াইবছর দেশের হাল ধরে। এতেই ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিল, আজকের এই দিনে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের ১৭ জনকে হত্যার মধ্যদিয়ে এ দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থামিয়ে ছিল।

জাতীয় শোক দিবসের এই আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে ছিলেন মাদ্রাসার রেক্টর মাওলানা মাহবুবুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সহকারী অধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা।