‘শ্রমিকদের আশা নস্যাৎ করা হলে পরিণতি ভালো হবে না’

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধ ও অবিলম্বে মজুরি বোর্ড পূর্ণগঠন করে জাতীয় নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা করা, বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান এবং ন্যায্য মূল্যে শ্রমিকদের রেশন দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ‘টিইউসি’।

বৃহষ্পতিবার (৩০ জুন) সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনের সামনে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল হাই শরীফ বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হাফিজুল ইসলাম, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, সহ-সভাপতি তপন কুমার রায়, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন প্রমূখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমূখী বাজারে শ্রমিকরা যে মজুরি পায় তা দিয়ে তাদের সংসার কোনভাবেই চলে না। এই পরিস্থিতির মধ্যে অনেক কারখানার মালিক মাসের পর মাস বেতন-ভাতা বকেয়া রাখে। যার ফলে সারাবছর শ্রমিকরা ধারদেনা করে চলে। দুবেলা দুমুঠো খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে। ফতুল্লার প্যারাডাইজ কেবল কারখানার শ্রমিকদের ১৩ মাসের বেতন বকেয়া, পরিশোধ করা হচ্ছে না। তাদের বেতন-বোনাস নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিকরা আশায় থাকে বকেয়া পাওনাসহ ঈদ বোনাস এক সাথে পেলে কিছু ধারদেনা কমাবে। ঈদে গ্রামের বাড়ি ফিরে আপনজনদের সাথে মিলিত হয়ে ঈদ উৎসব পালন করবে। তাদের সেই আশা নস্যাৎ করা হলে পরিণতি ভালো হবে না। ঈদ আগে সকল শ্রমিকদের এক মাসের বেতনের সমান ঈদ বোনাস ও বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে। সময় মতো শ্রমিকরা বেতন-বোনাস না পেলে ঈদে বাড়ি ফেরা সম্ভব হয় না। এসব বিবেচনায় নিয়ে ঈদের আগে শ্রমিকদের সকল পাওনাদী প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিকেএমইএ, বিজিএমইএ ও সরকারকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে। বেতন-বোনাস নিয়ে কোন টালবাহানা সহ্য করা হবে না।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হকাররা শহরের ফুটপাতে বসে দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের পুর্নবাসন না করে উচ্ছেদ করা যাবে না। সামনে ঈদ এসময়ে হকারদের পেটে লাথি দেয়া যাবে না। তাদেরকে ফুটপাতে বসে দোকান করার সুযোগ করে দিতে হবে। তারা আরও বলেন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে, বাসা ভাড়া, পরিবহন ভাড়াসহ সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ফলে শ্রমিকরা যে টাকা বেতন পায় সেই টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমূখী বাজার ও জনজীবনের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে অনতিবিলম্বে মজুরি কমিশন বোর্ড পূর্ণ গঠন করে জাতীয় নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে। নেতৃবৃন্দ ঈদের আগে সকল কারখানার শ্রমিকদের এক মাসের বেতনের সমান ঈদ বোনাস ও সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান এবং ন্যায্য মূল্যে শ্রমিকদের রেশন দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।