শ্রমিকের বেতন-বোনাসের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের মানববন্ধন

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শ্রমিকের এপ্রিল মাসের বেতন, ওভারটাইম ও পূর্ণ বোনাস পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা। রোববার (২ মে) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।


গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি হাসনাত কবীর, সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শাখার সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে বেতন বোনাস নিয়ে শিল্প এলাকাগুলোতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনেক মালিকরা ঈদের একদিন আগে বেতন এবং নামমাত্র বোনাস প্রদান করে।

কেউ কেউ বোনাস না দিয়ে ২০০/৫০০ টাকা বকশিশ দেয়। চান রাত্রি হওয়ায় শ্রমিকদের এগুলো নিয়ে মালিকদের সাথে আলোচনার সুযোগ থাকে না। শ্রমিকরা ঠিকমতো কেনাকাটাও করতে পারে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রম মন্ত্রী ১০ তারিখের মধ্যে বেতন বোনাস পরিশোধের কথা বলেছেন। ২০ রোজার মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠনের দাবিকে উপেক্ষা করে ১০ মে’র মধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা এক পাক্ষিকভাবে মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের অবস্থানের ধারাবাহিকতা।

আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সুযোগসন্ধানী মালিকদের জন্য ১০ মে শবে কদর তার আগে ৭ ও ৮ মে শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনের কারণ দেখিয়ে নির্দেশনা লঙ্ঘন করার এবং বরাবরের মত শেষ মূহূর্তের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করার পথ উম্মুক্ত রাখা হয়েছে।

এই ধরণের আচরণের পুণরাবৃত্তি শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ অর্থাৎ ৬ মে’র মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের কমপক্ষে ১ মাসের মজুরির সমান ঈদ বোনাস এবং এপ্রিল মাসের মজুরি পরিশোধের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, অভাবের সুযোগ নিয়ে সস্তায় শ্রমিকদের শ্রম লুণ্ঠনের ব্যবস্থা করা স্থিতিশীল শিল্প সম্পর্ক গড়ে তোলার মনোভাব নয়।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রনের জন্য সর্বাত্মক লকডাউন চলমান। এই লকডাউনের মধ্যেও পোষাক শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানির প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনের চাকা সচল রেখেছে।

কিন্তু সরকার ও শ্রমিকদের এই ত্যাগের কোন স্বীকৃতি দেয়নি। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও ঝুঁকি ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়নি।

পরিবহনের ব্যবস্থা না করে কারখানা চালু রেখে, স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় আয়োজন ছাড়ায় কাজ করানোর মধ্যে দিয়ে শ্রমিকদের দুর্ভোগে ফেলার জন্য দায়ী মালিকদের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

করোনা দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে সময়মত মজুরি পরিশোধ না করা, মজুরি কর্তন, ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ বা স্থানান্তর করে ক্ষতিপূরণ না দিয়ে শ্রমিকদের চাকুরিচুত্যি ইত্যাদি বহুভাবে শ্রমিকদের উপর নিপিড়নের ক্ষেত্রে সরকারের ভুমিকা মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করেছে, তাদের শোষণ-দায়িত্বহীনতার মাত্রা বাড়াতে উৎসাহিত করেছে।

করোনা দুর্যোগের মধ্যে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় না নিয়ে সরকার কর্মঘন্টা সংক্রান্ত শ্রম আইনের ধারাসমুহ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে নগ্নভাবে মালিকদের পক্ষ নিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ মের প্রথম সপ্তাহে শ্রমিকের বেতন, ওভারটাইম, পূর্ণ বোনাস পরিশোধ, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনের চাকা সচল রাখার কাজে নিয়োজিত গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকি ভাতা, করোনা টেষ্ট, টিকা এবং স্বাস্থ্যবিধির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান।

0