শ্রমিক মৃত্যুর গুজবে সংঘর্ষ, ৬ পুলিশসহ আহত ১৫

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সোনারগাঁয়ে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক মৃত্যুর গুজবে বিক্ষোভ করেছে ওই কারখানার শ্রমিকরা। এসময় তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়ক অবরোধ করে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। পুলিশ পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৬ পুলিশ সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ত্রিপুরদী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের পাশে চৈতী গ্রুপের প্রতিষ্ঠান চৈতী নীট কম্পোজিট লিমিটেড নামে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) খোরশেদ আলম, সোনারগাঁও থানা পরিদর্শক আলমগীর হোসেন, উপ-পরিদর্শক তানভীর হাসান, আব্দুল হাসান, নাজমুল হাসান, মাসুদ রানা, হাসান সহ শিল্প পুলিশের কনস্টেবল রুবেল ও জুলহাস। তবে আহত শ্রমিকদের তাৎক্ষনিক কোন নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে তাদেরকে কারখানার ভেতর ও স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে  চিকিৎসা দেয়া হয়।
পুলিশ ও শ্রমিকরা জানান, দুপুরে রিনা আক্তার নামে কারখানার সুইং সেকশনের এক শ্রমিক টয়লেটে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে দেখতে গিয়ে শেফালী বেগম ও নাজমা আক্তার নামে আরো দুই শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে যান। পরে মালিকপক্ষের লোকজন তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এর মধ্যে তিন নারী শ্রমিক মারা গেছে বলে কারখানায় গুজব ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিত শান্ত করতে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিলেও তারা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কে অবস্থান নিয়ে ফের বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে সহাসড়ক অবরোধ করে ৫/৬টি যানবাহন ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে। এতে ৬ পুলিশ সদস্য সহ অন্তত ১৫জন শ্রমিক আহত হন। এসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের দুই পাশে ১০কিলোমিটার এলাকায় আধঘন্টা যানজট থাকে। পরে পুলিশের সহায়তায় যান চলাচল শুরু হয়।
চৈতী নিট কম্পোজিট কারখানার উপ-মহা-ব্যবস্থাপক বদরুল আলম জানান, কারখানায় একজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সে সুস্থ আছে। তবে সেই শ্রমিক মারা গেছে বলে গুজব ছড়িড়ে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে ভাংচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আহত পুলিশ কর্মকর্তা জেলা পুািলশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারা (খ অঞ্চল) খোরশেদ আলম জানান, পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেও শ্রমিকার পুলিশের উপর হামরা করে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও কয়েকটি টিয়ারশেল ছুেড় শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মহাসড়কে যানচলাচল শুরু হয়।