সামাদ তুমি কার?

সিদ্ধিরগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শ্রমিকলীগের কমিটি ও পাল্টা কমিটি ঘোষনা করায় নেতাকর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এতে তাদের মধ্যে একপ্রকার বিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি দুটি গ্রুপ একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় স্থানীয় থানা পুলিশ কোন পক্ষকেই অনুষ্ঠানটি করতে দেন নি। একই ব্যক্তিকে দু’টি কমিটিতে আহ্বায়ক করায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। তারা বলেন, দুটি কমিটিতে একই ব্যক্তিকে কিভাবে আহ্বায়ক রাখা হয় এ বিষয়ে আমরা কিছুই বুঝতে পারছিনা। এতে করে তাকে নিয়ে সাধারণ সদস্যদের মাঝে প্রশ্ন জেগেছে সামাদ বেপারী আসলে কার সাথে আছেন। কবির হোসেন নাকি সাদ্দাম হোসেনের সাথে।
দলীয়সূত্রে জানাযায়, সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের একটি কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে আব্দুস সামাদ বেপারীকে ও সদস্য সচিব করা হয়েছে, সাদ্দাম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে। অপরদিকে অন্য একটি কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে একই ব্যক্তি আব্দুস সামাদ বেপারীকে ওই কমিটিতে সদস্য সচিব করা হয়েছে কবির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে। দু’টি কমিটি জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কার্য্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ আঠার বছর পর সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের এই কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীরা আশার আলো দেখলেও দুটি কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়ায় হতাশায় পড়েছেন তৃনমূলের নেতাকর্মীরা।
তৃনমূলের একাধিক কর্মীর অভিযোগ, গত আঠার বছর ধরে এই সংগঠনের সভাপতি হয়ে কাজ করেছেন আব্দুস সামাদ বেপারী নামের এক ব্যক্তি। যিনি কখনোই দলীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ণ করেন নি। সবসময় নিজের আখের ঘুছাতেই ব্যস্ত সময় পাড় করেছেন তিনি। এক সময়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও শিমড়াইল মোড় থেকে চলাচলরত চাষাড়া সড়কে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা, সিএনজি স্ট্যান্ডসহ পরিবহনের চাঁদা উঠাতেন তিনি ও তার লোকজন। চাঁদাবাজির অভিযোগে আব্দুস সামাদ বেপারী, তার সহযোগী ইলিয়াস মোল্লা, মাসুদ মিয়া র‌্যাবের জালে ধরা পড়ে জেল খেটেছেন তারা। তাই তৃনমূল নেতাকর্মীদের দাবি বিতর্কিত ব্যাক্তিদের বাদ দিয়ে নতুন যোগ্য ও পরীক্ষিতি নেতাকর্মীদের দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষনা করলে আন্দোলন সংগ্রামে গতি ফিরবে সংগঠনটির।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিকলীগের নেতাকর্মী জানান, সামাদ বেপারী দীর্ঘ আঠার বছর যাবৎ শ্রমিক লীগের সভাপতি থেকে নেতাকর্মীদের কোন ভাবেই ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারেন নি। তিনি আদমজী ইপিজেট এলাকায় একটি কারখানায় ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও মাদানীনগর এলাকায় মহাসড়কের পাশে বালুর ব্যবসাসহ বিভিন্নভাবে নিজের আখের ঘুছিয়েছেন। সাদ্দাম হোসেন নামে যে ব্যক্তি দুধের মাছির মতো দলে ঠাই করে নিয়ে মরিয়া হয়ে পড়েছে সেতো আসলে তেল চোর। সামান্য তেল চুরি থেকে আজ সে এই পর্যায়ে এসেছেন। দলের নাম ব্যবহার করে ইতোমধ্যে আদমজী ইপিজেডেও ব্যবসা দখল করে নিয়েছেন তেল চোর সাদ্দাম। সামান্য অল্প সময়ের ব্যবধানে সাদ্দাম হোসেন আঙ্গুর ফুলে কলাগাছে রুপ নিয়েছেন। তার আয়ের উতসগুলো দূর্নীতি দমন কমিশন খতিয়ে দেখলে বের হয়ে আসবে থলের বিড়াল।
সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের যুগ্ন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, একটি কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে এমন একজন ব্যক্তিকে যিনি কখনো আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না এবং কোন কমিটির সদস্যও ছিলেন না। টাকার জোড়ে হঠাৎ করেই একটি কমিটিতে সদস্য সচিব পদ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। অথচ আমরা দলের জন্য জীবন যৌবন বিষর্জন দিয়ে সংগঠনটি টিকিয়ে রেখেছি এলাকায়। সাদ্দাম হোসেন নামে যে ব্যক্তি একটি কমিটির সদস্য সচিব হয়েছেন, তাকে কখনোই আমরা দেখিনি কোন সময় দলের কার্যক্রমে যোগ দিতে। দলীয় কোন কর্মসূচীতেও তাকে দেখা যায় নি। উড়ে এসে জুড়ে বসে বাগিয়ে নিয়েছেন পদটি। কিভাবে সম্বভ। যারা দলের এতদিন ত্যাগ তিতিক্ষা করল জীবনের মূল্যাবান সময় দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করলো তাদের কি কোন মূল্যায়ন হবে না? আশা করি কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি মূল্যায়ন করবেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক আব্দুর রহিম মুন্সী জানান, আমি আমার এই প্রিয় সংগঠন শ্রমিকলীগের রাজনীতির সাথে বিশ বছর যাবৎ জড়িত রয়েছি। দলের জন্য সবসময় জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি। দুটি কমিটিতে এক ব্যক্তিকে আহ্বায়ক রাখায় আমরা বিপাকে পড়েগেছি।
সামাদ বেপারী কখনোই কর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। কোনদিন ভাবেন নি আমাদের নিয়ে ভেবেছেন তার নিজেকে নিয়ে। পরিবহন চাঁদাবাজির অভিযোগে র‌্যাব-১১ তাকে আটকও হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা এমন একজনকে চাই, যিনি আমাদের সুখে দুখে সহযোগীতা করবে। তুনমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবে।
কবির হোসেন জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ শ্রমিকলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। দলের দু:সময়ে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য কাজ করেছি। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। আমাদের কমিটিতে যাতে কোন অযোগ্য ও যারা রাজনীতির সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলেন না তাদের যেন ভাইটাল পোষ্টে না রাখা হয় সেজন্য কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের প্রতি দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদ্দাম হোসেন জানান, আমি অল্প সময়ে দলের জন্য কাজ করায় দল আমাদের মূল্যায়ণ করেছে। আগামীতেও যেন আমাকে মূল্যায়ন করেন সেই দাবি জানাই দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি।
শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক সাামদ বেপারী জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ শ্রমিকলীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। দলের দূঃসময়ে দলের জন্য কাজ করেছি। তাই কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে মূল্যায়ণ করবে বলে আমি আশা রাখি। তবে শ্রমিকলীগের কমিটিতে যাতে করে কোন নব্য হাইব্রিডদের জায়গা না দিয়ে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয় সেজন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহŸান জানান তিনি। দুটি কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আপনার নাম দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেন নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কার্যকরি সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে দুটি আহবায়ক কমিটি কেন্দ্রে জমা পড়েছে কিনা এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খবর নিয়ে যথাযত ব্যবস্থার কথা জানান তিনি।