স্কয়ারের বেতন দিতে ২ দিন দেরি: কারখানা ভাঙচুর, শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষ

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রতি মাসের ৭ তারিখে বেতন পরিশোধ করা হয়; কিন্তু এবার ৯ তারিখেও বেতন পায়নি বলে কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ হয়েছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৮৭ রাউন্ড রাবার বুলেট, ২০ রাউন্ড গ্যাস গান ও ৬ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেট নিক্ষেপ করতে হয়েছে শিল্প পুলিশকে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যাত্রামুড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকাল থেকে দফায় দফায় ওই ঘটনা ঘটায় স্কয়ার নীট কম্পোজিট লি. এর শ্রমিকরা। এতে শ্রমিকদের কেউ আহত হওয়ার খবর না পাওয়া গেলেও ৫ জন কনস্টেবল ইট পাটকেলের আঘাতে আহত হয়।

তবে, বর্তমানে মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটিতে শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ৬৫০০ জন। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করতেন কারখানাটির কর্তৃপক্ষ। এবার ৯ তারিখেও বেতন দিতে পারেনি। তাই ১০ জুন সকালে কারখানার শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির ভিতরে ক্যান্টিন, অফিসে গ্লাস, চেয়ার টেবিল, সিসি ক্যামেরা ও কম্পিউটার ভাঙচুর করে আন্দোলন শুরু করেন। কাঁচপুর ক্যাম্পের ৪টি টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে হেলারের মাধ্যমে শ্রমিকদের শান্ত হতে বলা হলেও আরো উত্তেজিত হয় শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাটি সোটা নিয়ে পুলিশ ও ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষের উপর আক্রমণ করে এবং রাস্তায় থেকে গাড়ী ভাঙচুর করেন। পুলিশ প্রথমে মৃদু লাঠি চার্জ করে। পরবর্তীতেযান মাল রক্ষার্থে এবং শ্রমিকদের ছত্র ভঙ্গ করতে ফাঁকা ফায়ার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ব্যাপারে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের পরিদর্শক (ওসি ইন্টেলিজেন্ট) শেখ বসির আহম্মেদ জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আগের পাওনাদী ছিল না। মে মাসের বেতন-ভাতার দাবীতে শ্রমিকরা হঠাৎ করে রাস্তায় চলে এসেছিল। পরে শিল্প পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সড়িয়ে দিয়েছে। মালিক পক্ষ কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে বেতন পরিশোধের আশ্বস্ত করায় শ্রমিকরা শান্ত হন। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

স্কয়ার নীট কম্পোজিট লি. এর নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ জানান, সাধারণত আমাদের কারখানায় শ্রমিকদের বেতন ১-৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করে থাকি। করোনা মহামারী সংকটের কারণে গত কয়েক মাস যাবত তা ৭-১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করে আসছি। আমাদের শ্রমিকদের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সকল দেনা পাওনা (বেতন, বোনাস, মাতৃত্ব কালিন সুবিধা, চাকুরী অব্যাহতির সুবিধা) পরিশোধ করা আছে। ১০ জুন মে মাসের সকল বেতন পরিশোধ করার প্রস্তুতি নেয়ার পরও এমন নেক্কারজনক ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অমি এই বৃহত্তর শিল্পের সার্থে এমন ঘটনার পেছনের কারিগরদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ তথা প্রশাসনের এর সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

0