হকারদের দখলে সিরাজউদ্দৌলা সড়ক

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নগরীর ব্যস্ততম সড়ক গুলোর মধ্যে একটি হলো নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়ক। একটি বিদ্যালয়, একটি বিশ্ব বিদ্যালয়সহ নগরীর প্রধান কাঁচা বাজার ও বিভিন্ন অফিস থাকায় সর্বত্র মানুষের যাতায়তে মুখরিত থাকে এই সড়কটি। আর এই সড়কটিকে ঘিরেই শুরু হয়েছে হকার নামক দখলদারদের দৌরাত্ম্যে। যার কারণে রাস্তায় স্বাচ্ছ্যন্দে চলাচল করতে পারছেন না পথচারীরা। এমনকি যান চলাচলে ঘটছে ব্যাঘাত, সারাক্ষণই লেগে থাকছে যানজট। তাছাড়া প্রায় সময়ই ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা।

সারে জমিনে দেখা গেছে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ এখন দখল হয়ে গেছে। প্রতিদিন এই সড়কে বসে প্রায় ১৬৫ জন হকার। ফুটপাত দখল করে এসব দোকানি বসছেন স্থায়ীভাবেই। আর যাঁরা ফুটপাতে জায়গা পাচ্ছেন না, তাঁরা মালামাল নিয়ে বসে পড়েছেন রাস্তার উপরেই। এমনকি রাস্তার ড্রেনের স্লাবের ওপরেও বসেছে ফলের দোকান, পোশাকের দোকান, জুতার দোকান, কসমেটিক্সের দোকান, গজ কাপড়ের দোকান, ব্যাগের দোকানসহ নানা পণ্যের দোকান। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের সামনে, ফুটপাত দখল করে আরো ২৫ টি দোকান বসেছে। অপর পাশে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে মার্কেটের প্রায় সব দোকানগুলোই দোকানের বাহিরে রাস্তা দখল করে রেখেছে। ফুটপাত বলতে এখানে কিছুই নেই। আর এই অবৈধ দখলদারদের জন্যই যানবাহনের সাথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে সাধারন পথচারী ও স্কুল কলেজের হাজারো শিক্ষার্থীরা।

কালির বাজার ফ্রেন্ডস মার্কেটের সামেনে যানজটের ভুক্তভোগী হাসান বলেন, রাস্তায় দুইপাশেই দোকান বসায় রাখলে আমাদের চলাচলে সমস্যা তো হবেই। ফুটপাতের কোন চিহ্ন দেখি না। রাস্তার উপর দিয়েই কোন ভাবে হাঁটি। এই রাস্তা দিয়ে যখন বাস চলে তখন আর হাঁটার জায়গা থাকে না। আর যানজট তো লেগেই থাকে।

ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গিয়ে ভিড়ের কারণে সামনে এগোতে পারছিলেন না এক পথচারী। তিনি বলেন, ফুটপাতের যে টুকু অংশ ফাঁকা আছে, সেটা তো লোকজনের চলাচলের জন্য নয়। ওই অংশটা হলো ক্রেতাদের দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করার জন্য। রাস্তার ওপর দোকান, মূল সড়কে হেঁটে চলা মানুষ, বাস, সিএনজি, প্রাইভেট কার, রিক্সা সব মিলিয়ে একটা প্রচণ্ড বিশৃঙ্খল অবস্থা। একটু পর পর লেগে যায় যানজট।

নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী রবিন জানায়, ক্লাস শেষে বের হলেই এখানে যান জটের কবলে পরতে হয়। ক্লান্ত অবস্থায় তারাতাড়ি বাসায় যেতে চাইলেও যেতে পারি না। কারন এখানে যে ভাসমান হকার আছে তাদের কারনে রাস্তার প্রায় এক তৃতীয়াংশ ব্লক হয়ে থাকে। হেঁটে যেতে হয় অনেকটা পথ।

পথচারী রেদওয়ান বলেন, কাজে যাওয়ার জন্য এই পথেই নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ফুটপাতের পুরো অংশেই দোকান হয়ে গেছে। আর এসকল দোকনের ক্রেতাদের ভিড় থাকে অনেক। তাই রাস্তায় ঠিক মত চলাচল করতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে ভিড় ঠেলে কষ্ট করে হাটতে হয় রাস্তায় তাছাড়া কোনো উপায় নেই।