হিন্দু-মুসলমান, ওনি কারো সম্পত্তি ছাড়ছেন না: সেলিম ওসমান

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আমার পরে যারা দায়িত্ব নিতে আসবেন, আমি মনে করি আবু হাসনাত যিনি ভিপি বাদল নামে পরিচিত, চন্দন শীল যে চাষাড়ায় বোমা হামলায় তার পা হারিয়েছেন আর একজন হলো আমাদের খোকন সাহা। আপনারা দেখবেন একদিন এরাই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হবে, কেউ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হবে কেউ এমপি হবে।


শুক্রবার ( ৫ মার্চ ) বিকাল ৩টায় নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন টি হোসেন গার্ডেনে আয়োজিত উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান এ কথা বলেন।

সেলিম ওসমান বলেন, বড়রা আগে বলতো ‘রেগে গেছো তো হেরে গেছো’। রেগে আর যেও না, আমরা সবাই দেখতে পারছি। হিন্দু-মুসলমান, ওনি কারো সম্পত্তি ছাড়ছেন না। তার জবাব উপরে গেলে দিতেই হবে। জমি নিয়ে যারা কুন্দল করে আল্লাহ মৃত্যুর পরে ঐ জমির ওজন তার গলায় তাবিজ বানিয়ে ঝুলিয়ে দিবে। লোভ করতে গেলে সে যত বড়ই নেতা হোক না কেন সে টিকে থাকবে না। ইবলিশ শয়তানি করবেই এবং ইবলিশ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমার ইমানই যথেষ্ট। ইমানের সাথে কাজ করলে দেখবেন উন্নয়ন হবে।

সেলিম ওসমান আরও বলেন, আমার নিজের কাছেই অনেক খারাপ লাগছে যে করোনার কারনে আমাদের উন্নয়ন গুলো অনেকটাই থেমে গেছে। আমরা সবাই মিলে যেভাবে কাজ করেছি, করোনা ভাইরাসের মতো খারাপ ভাইরাসও কিন্তু আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছে। তবুও আমি আপনাদের বলবো মাস্ক টা আপনারা পরেন। আমরা ভাবতে পারি ভ্যাকসিন এসে গেছে এখন করোনা হবে না এটা ঠিক নয়। আমাদের সর্বদা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এই প্রধানমন্ত্রীকে যদি আমরা না পেতাম তাহলে আমরা ভ্যাকসিনও পেতাম না। কত উন্নত দেশ ভ্যাকসিনে জন্য ভিক্ষা করে বেরাচ্ছে, এদিকে আমরা অফুরন্ত ভ্যাকসিন পেয়েছি। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ এ ভ্যাকসিন গ্রহন করছেন।

তিনি আরও বলেন, আজ নারায়ণগঞ্জে এমন অনেক মিল বন্ধ হয়ে গেছে যা চালু থাকলে নারায়ণগঞ্জের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো থাকতো। আমি কখনো কাউকে নমিনিশন দেই নাই। আলিরটেক এ মতির সাথে আমি দীর্ঘ দিন কাজ করেছি বলে আমি মনে করেছি ও এই পদের জন্য উপযোগি। আমি জদি নমিনিশন দিতে পারতাম তাহলে কি আমি লাঙ্গল নিতাম নাকি নৌকাইতো নিতাম। আমি ভেবে ছিলাম আমি আর নির্বাচন করবো না। কিন্তু আমি দেখেছি মানুষ আমাকে ভালোবাসে, তাদের ভালোবাসা ফেলে আমি চলে যেতে পারবো না। আমার মনে হয় আপনাদের ভালোবাসা এবং আপনাদের দোয়ার কারনেই আমি বেচে আছি।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, করোনার সময় আমি আমার এলাকার চেয়ারম্যানদের বলেছিলাম আমার এখানে একজনেরও যাতে করোনা না হয়, যদি হয় তাহলে তুমি চেয়ারম্যান থাকতে পারবে না। তাই আমার চেয়ারম্যান রা দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। আপনারা আমাদের মাতৃতুল্য নেত্রী আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ ওনাকে যাতে দীর্ঘায়ু দান করেন। তিনি বেচে থাকলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব।

এ সময় সেলিম ওসমান স্থানীয় মানুষদের ডেকে ডেকে স্টেজে উঠিয়ে তাদের সমস্যার কথা সবার সামনে খুলে বলতে বলেন এবং সকলকে আস্বাস দেন যে তাদের সব রকমের সমস্যা শিগ্রই শেষ হয়ে যাবে। তার এ কথা শুনে স্থানীরা তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ করেন।

বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সানু।

আরও উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালিমা হোসেন শান্তা, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন প্রধাণ,ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ,মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম এ সালাম, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন প্রমূখ।

0
, ,