হেফাজত নেতা মামুনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগে যা লিখেছেন ঝর্ণা…

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এ মাসের শুরুতে ঘটে যাওয়া কান্ডে নতুন মোড় নিয়েছে। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে ‘নারীসহ’ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে অবরুদ্ধ করে স্থানীয়রা ৩ এপ্রিল। ওই ঘটনায় সোনারগায়ে লঙ্কাকান্ড ঘটেছিল। সড়ক, আওয়ামী লীগের অফিস, নেতাদের বাড়ি ও রিসোর্টে হামলা-ভাংচুর করেছিল মামুনুল সমর্থকরা।

ওই, মামুনুল হকের দাবি ছিলো- সঙ্গে থাকা নারীর নাম আমিনা তৈয়ব। তিনি মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী। যদিও ওই নারীর তার নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা জানায়।

ঘটনা দিনেরই একটি ফোনালাপ মামুনুলের সাথে প্রথম স্ত্রী আমেনা তৈয়বার পরবর্তিতে ফাঁস হয়। যেখানে মামুনুল বলেন, জনরোষ থেকে বাঁচতেই জান্নাত আরা ঝর্ণাকে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। আসলে ওই ঝর্ণা হাফেজ শহীদুলের স্ত্রী।

তবে, এবার সেই ঘটনার নতুন মোড় নিয়েছে। ২৭ দিন পর এসে ওই নারী হেফাজতের এই শীর্ষ নেতা মামুনুলের বিরুদ্ধে বিয়ের আশ্বাসে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় নিজে বাদি হয়ে নানা লিখিত আকারে জমা দেন। পাঠকের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ি জানা যায়, জান্নাত আরা ঝর্ণার বয়স ২৭, তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওলিয়ার রহমান। ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার কামারগাঁয়ে গ্রাম। বর্তমানে উত্তর ধামন্ডির ২৩/৩ নর্থ সার্কুলার রোডে বসবাস করেন।

ঝর্ণার অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়, মৃত মাওলানা শায়খূল হাদিস আজিজুল হক এর ছেলে মামুনুল হক (৫০) যার বর্তমান ঠিকানা মোহাম্মদপুর কাদেরাবাদ হাউজিং এন ডি ব্লকের ১নং রোডের ৭নং বাসা। এই মামুনুলের সাথে ঝর্ণার সাবেক স্বামী মাওলানা শহিদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব, সেই সূত্রে ২০০৫ সালে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকেই স্বামীর বন্ধু হিসেবে বাসায় অবাধ যাতায়াত থাকার সুবাদে পরিচয়ের শুরু থেকেই আমার উপর মামুনুল হকের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। সে সুকৌশলে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরী করতে থাকে। তার কু-পরামর্শে ২০১৮ সালের ১০ আগষ্ট আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এর পর আমি পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়ি। আর এই সুযোগ নিয়েই মামুনুল আমাকে ঢাকার একটি সাবলেট বাসা ভাড়া করে দেয় এবং একিট পার্লারে কাজ ঠিক করে দেয়। বাসা ভাড়াও আনুষাঙ্গিক খরচ মামুনুল দিতে থাকে। আর গত দুই বছর যাবৎ এভাবেই আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী হোটেল ও রিসোর্টে রাত্রিযাপন ও যৌন লালসা চরিতার্থ করে।

সোনারগাঁও থানার অভিযোগ পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ ৩ এপ্রিল মামুনুল ঘোরাঘুরির কথা বলে বেলা সোয়া তিনটার দিকে সোনারগাঁও এর রয়েল রিসোর্টের ৫তলার ৫০১ নং রুমে নিয়ে যায় ঝর্ণাকে। সেখানে মামুনুল বিয়ের প্রলোভনে জোর পূর্বক ঝর্ণাকে ধর্ষণ করে।

ঝর্ণা আরও অভিযোগ করেন, রয়েল রিসোর্টে অবস্থানকালে স্থানীয় জনতার রোষানলে পড়ি। উভয়ে তখন পরিচয়ের সদুত্তর দিতে পারি নি। পরবর্তীতে মামুনুল হকের অনুসারীরা রিসোর্টে হামলা করে আমাদেরকে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর আমাকে আমার ভাড়া বাসায় যেতে না দিয়ে মামুনুলের পরিচতি একজনের বাসায় জোরেপূর্বক আটকে রাখে।

ঝর্ণার ভাষ্যমতে, এক সময় সে সুকৌশলে তার বড় ছেলেকে বন্দিদশা হতে উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে বলা হলে, ২৭ এপ্রিল ডিবি পুলিশ ঝর্ণাকে কলাবাগান হতে উদ্ধার করে।

0