২০০১ সালের বোমা হামলা: ২০ হত্যার বিচার হয়নি ২০ বছরেও

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ২০০১ সালের ১৬ জুন রাতে শহরের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে তৎকালীন সাংসদ শামীম ওসমানের গণসংযোগ কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচি শেষ পর্যায়ে বিকট শব্দে শক্তিশালী দুটি বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন ২০ জন। আহত হন সাংসদ শামীম ওসমানসহ শতাধিক নেতা–কর্মী। ওই হামলায় চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন বর্তমানে জেলা যুবলীগের সহসভাপতি রতন কুমার দাস ও মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি চন্দন শীল।


পরদিন ১৭ জুন হত্যা ও বিষ্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে বিষ্ফোরক মামলায় ও ২০১৪ সালে হত্যা মামলায় ৫ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ পত্র জমা দেয় তদন্তকারী সংস্থা।

ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৪ দলীয় জোট সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার আরিফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল নেতা শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ১০ জন।

মামলা দুটি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন। হত্যা মামলায় বাদীসহ সাক্ষী ৫৬ জন এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় বাদীসহ সাক্ষী ৮২ জন। ইতিমধ্যে দুই মামলায় ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলছেন করোনা মহামারির কারণে বিচার কাজে বিলম্ব হচ্ছে।

এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা বলেন, আজকে অনেকের ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে গেছে, সমন যাচ্ছে সমন ফেরত আসছে। মামলার যারা সাক্ষী রয়েছেন তারা উদ্যোগী হয়ে আদালতে গিয়ে সাক্ষী দিন। তাহলে অবশ্যই বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচার করবে।

এদিকে, ৩৩ মাসে সাত খুন মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হলেও, গত ২০ বছরেও ২০জন হত্যা মামলার বিচার শেষ না হওয়ায়, ক্ষুব্ধ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। আসামীরা জামিন নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেরানোই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, প্রতিটা জায়গায় বিচার মোটামুটি হয়েছে কিন্তু নারায়ণগঞ্জে যে বোমা হামলা হইলো, এতো বড় বোমা হামলা এটার বিচার কাজ আমরা দেখছি না। রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাইতে চাইতে আমরা ক্লান্ত। যারা আসামী তারা প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করছে। এটা নিয়ে আমরা শঙ্কিত, যে বিচার হবে কিনা।

এ দিকে ২০০১ সালের বোমা হামলায় পা হারানো মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি চন্দন শীলের বলছেন, আমরা যে সাক্ষ্য দিয়েছিলাম আদালতে তা পাল্টে দেয়া হয়েছে। আমাদের সন্দেহ প্রশাসনের কোনো লোক এই মৌলবাদীদের সাথে জড়িত আছে। এদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানাই।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, আমরা দ্রুত নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছি। লকডাউনের কারণে বিচারকাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

চাঞ্চল্যকর এই মামলা দুটি নিষ্পত্তি করে দোষীদের শাস্তি এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার দাবী নারায়ণগঞ্জ বাসীর।

0