‌ডেন্টাল ক্লি‌নি‌কের মা‌লিক‌কে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলা! (ভিডিওসহ)

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এটা কী আপনার জায়গা, আপনি ভাড়িওয়ালা? জুতা খুলে একদম পিটাবো; বলতে বলতেই এক নারী জুতাপেটা করছিলেন ভাড়ায় নিয়ে পরিচালনা করা ডেন্টাল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে। এরপর সাথে থাকা আরও ১০-১২ যুবক সেই ব্যবসায়ীকে টেনে হেচরে রাস্তায় নিয়ে মারধর করলেন। শত শত মানুষ দেখছে, কিন্তু সহযোগীতা করার সাহস টুকুও পাচ্ছে না কেউ।

গত ৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় নগরীর কালিরবাজারের ৪৭নং সিরাজদৈলা রোডের এম.ঈ আলী ডেন্টাল ক্লিনিকের সামনের এই ঘটনা ঘটে। এই হামলার ভিডিওচিত্র দেখে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সেখানকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

হামলার শিকার ওই ব্যক্তি শহরের মিশনপাড়ার নবাব সলিমুল্লা রোডের মির্জা জাকির আলীর ছেলে মির্জা ফায়েজ আলী(৪০)। সে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত এম.ঈ আলী ডেন্টাল ক্লিনিকটি পরিচালনা করে আসছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মো. রবিন হোসেন (৩৫) ও তার স্ত্রী সিনথিয়া রহমান সিফাত (৩০) এর নাম জানাতে পেড়েছে ভুক্তভোগী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালিরবাজারের ৪৭নং সিরাজদৈলা রোডের পাশেই ৮ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন ফজলুর রহমান। তার মৃত্যুর পর ২ শতাংশ করে ৪ শতাংশ জমির মালিক হয়েছে দুই পুত্র মো. হাবিবুর রহমান শিমুল ও আতাউর রহমান সোহেল। আর বাকি ৪ শতাংশ জমির মালিক হয়েছেন ৩ মেয়ে ও ফজলুর রহমানের স্ত্রী সুফিা বেগম। জমিটির কোন বন্টননামা দলিল না থাকায় তাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগম অভিভাবক হিসেবে ১৫ বছর পূর্বে মাসিক ভাড়ার চুক্তিতে এম.ঈ আলী ডেন্টাল ক্লিনিকের কাছে পজিসেন ভাড়া দেন। সম্প্রতি আতাউর রহমান সোহেলের মেয়ে অভিযুক্ত সিনথিয়া রহমান সিফাত ও তার স্বামী মো. রবিন হোসেন সেই ভাড়ার টাকা দাবী করেন ক্লিনিকের মালিক মির্জা ফায়েজ আলীর কাছে। অন্যদিকে, ডিট অনুয়ায়ী সুফিয়া বেগম ও তার বাকি সন্তানেরাও সেই টাকা দাবি করে ও ভাড়াও পরিশোধ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, দাদি সুফিয়া বেগমকে ভাড়া দেওয়ায় স্বামী ও স্বামীর বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এম.ঈ আলী ডেন্টাল ক্লিনিকে নিচে অবস্থান নেয় নাতনী সিনথিয়া রহমান সিফাত (৩০)। লোক দিয়ে ডেকে নিচে নিয়ে এম.ঈ আলী ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক ফায়েজ আলীকে জুতাপেটা করেন সিনথিয়া রহমান সিফাত। এ সময় আরও আরও ১০-১২ যুবক সেই ব্যবসায়ীকে টেনে হেচরে রাস্তায় নিয়ে মারধর করেন। শত শত মানুষ দেখছে, কিন্তু সহযোগীতা করার সাহস টুকুও পাচ্ছিল না কেউ। পরে তারা ব্যবসায়ী ফায়েজ আলীকে মারধর করে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন মির্জা ফায়েজ আলীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। এখনও হামলা কারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ভুক্তভোগী মির্জা ফায়েজ আলী বলেন, সিনথিয়া রহমান সিফাতের স্বামী মো. রবিন হোসেন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার লোক পরিচয় দেয়। সব সময় কালিবাজার ও আশপাশের এলাকার ১০-১৫ জন যুবক নিয়ে চলে। তাই এলাকার কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। ৪ এপ্রিল রাতে যখন আমাকে মারধর করছিল, তখনও কেউ ভয়ে কিছু বলেনি। তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

জমির মালিক সুফিয়া বেগমের ছেলে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জমিটিতে আমাদেরও অংশীদারীত্ব রয়েছে। সেখান থেকে ভাড়া আমরাও পাই। সিনথিয়া রহমান সিফাত ও স্বামী মো. রবিন হোসেন ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করায় আমরাও থানায় অভিযোগ দিয়েছি।

এদিকে, ঘটনার ২ দিন অতিবাহিত হলেও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিবলী কায়েস জানান, দুই পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ জামান জানান, ‘আমি এখনও বিষয়টি জানি না। যদি ঘটনা ওই রকমই হয়ে থাকে। তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে, অভিযুক্ত রবিন হোসেনের মঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও চেষ্টা করেও মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

0